প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু এই ঢাকা। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে যখন কার্জন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তখন থেকেই এই অঞ্চলের সিভিল সার্ভিসের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য গড়ে ওঠে। ১৯ শতকের সেই ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর স্বাধীন বাংলাদেশের সচিবালয় এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা—প্রতিটি ধাপেই সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এই প্রেক্ষাপটে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন পেয়ে সরকার গঠনের পর, নতুন সরকার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ৫১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে সচিব ও সিনিয়র সচিবদের নিজ নিজ আওতাধীন খাতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের প্রত্যাশা এবং জাতীয় প্রতিশ্রুতির অংশ।
ইশতেহার: বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব সচিবকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মপরিকল্পনা: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এই কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরণের রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই:
সচিবদের দপ্তর বদল: একদিনে এক ডজন সচিবকে সরানো হয়েছে।
শূন্য পদ: প্রশাসনে ১৩ জন সচিবের পদ খালি রয়েছে, যেখানে দ্রুত নতুন পদায়নের তোড়জোড় চলছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এই নতুন বাংলাদেশে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং মেনিফেস্টো বাস্তবায়নের এই কঠোর অঙ্গীকার বাংলাদেশকে এক নতুন শিখরে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিজ্ঞপ্তি এবং ঐতিহাসিক প্রশাসনিক আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |